দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শত শত কর্মকর্তা বর্তমানে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করছেন বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধের লক্ষ্যে পরিচালিত কার্যক্রম সমন্বয়ে তারা হুথিদের সহায়তা করছেন।
হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের অবস্থান ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করার মধ্যেই আইআরজিসি কর্মকর্তাদের মোতায়েনের এই তথ্য সামনে এলো। আইআরজিসিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার কয়েক দিনের লড়াইয়ের পর সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মোকা বন্দর দখলে নেয় হুথিরা। বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে বন্দরটি প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। রয়টার্সের উদ্ধৃত সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুথি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বিশ্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দ্বিতীয় সামুদ্রিক প্রবেশপথও হুমকিতে
বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি সুয়েজ খালের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথ। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতে পারে।
মোকা দখলের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি সরাসরি অবস্থান তৈরি করেছে হুথিরা। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ হুথিদের এই অগ্রযাত্রাকে সংঘাতের ‘নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হরমুজ প্রণালি আগে থেকেই সংকটের মধ্যে থাকায় বাব আল-মান্দাবের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে হুমকির মধ্যে পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ দিয়ে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ
ইয়েমেনে আইআরজিসির শত শত সদস্য থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, হুথিদের কার্যক্রমে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা আরও বাড়তে পারে।
রয়টার্সও পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইয়েমেনি সরকারি, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছে, হুথিদের উপকূলীয় অভিযান ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে।
তবে হুথিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান। হুথিরাও দাবি করে, তাদের সামরিক সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক দক্ষতা দিয়ে সহায়তা করে আসছে। তবে আইআরজিসির বিপুলসংখ্যক সদস্য সরাসরি ইয়েমেনে মোতায়েনের বিষয়টি সত্য হলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করা অভিযানে তেহরানের আরও সরাসরি ভূমিকার ইঙ্গিত দেবে।
জ্বালানি ও নৌবাণিজ্যে বড় চাপের আশঙ্কা
একই সময়ে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুই প্রণালিতে চাপ তৈরি হলে জ্বালানি ও নৌবাণিজ্যে নজিরবিহীন সংকট দেখা দিতে পারে। হরমুজ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ। অন্যদিকে ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের মধ্যে নৌবাণিজ্যের জন্য বাব আল-মান্দাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুই নৌপথই চাপে পড়লে জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে জাহাজ পরিচালনা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধঝুঁকির কারণে বীমা ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।
হুথিদের অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পর এরই মধ্যে বাজারে এর প্রভাব দেখা গেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠেছে।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এর কৌশলগত ঝুঁকি শুধু ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরব উপদ্বীপের দুই পাশে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলে ইরান একই সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
/অ